দরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডির চাল আত্মসাতের মামলায় যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারকে ১৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৪ মে) যশোরের বিশেষ দায়রা জজ ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত বাবুল আক্তার অভয়নগর এলাকার আতিয়ার গাজীর ছেলে।
রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম।
২০১৭-১৮ অর্থবছরের আওতায় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ২৬০ জন উপকারভোগীর জন্য ৩০ কেজি করে মোট ৭ হাজার ৮০০ কেজি (৭.৮ মেট্রিক টন) ভিজিডির চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাঘুটিয়া ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর সরকারি গুদাম থেকে এই চাল উত্তোলন করেন। তবে উত্তোলিত চাল উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে এবং ইউনিয়ন পরিষদে না নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি অভয়নগর থানায় মামলা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রানী মজুমদার। মামলার তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারকে অভিযুক্ত করে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
আদালত এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাকে আরও ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আত্মসাৎকৃত চালের সমমূল্য ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০৮ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক, যা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে আদায়যোগ্য হবে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় ধারার সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে। ফলে আসামিকে সর্বমোট ১৩ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

